Buscar
15:02h. Jueves, 15 de Noviembre de 2018

বাহে খালেদা-হাসিনা কি ধর্ম বোজেনা?

‘বাহে তোমাক দুক্কের কতা কয়া লাব কি? হামার এই দ্যাশোত দুই বেটিছাওয়া (হাসিনা-খালেদা) কারো কথা বুজার চ্যাষ্টা করে না। ক্ষমতার জন্য মানষোক ধর্মকর্মও ঠিকমতো পালন করবার দেওছে না। বাহে ওমরা কি ধর্ম বোজেনা?’

 

‘বাহে তোমাক দুক্কের কতা কয়া লাব কি? হামার এই দ্যাশোত দুই বেটিছাওয়া (হাসিনা-খালেদা) কারো কথা বুজার চ্যাষ্টা করে না। ক্ষমতার জন্য মানষোক ধর্মকর্মও ঠিকমতো পালন করবার দেওছে না। বাহে ওমরা কি ধর্ম বোজেনা?’

শুক্রবার সকালে রংপুর মহানগরীর কামারপাড়া ঢাকা কোচস্ট্যান্ডে সিরাজুল ইসলাম এসেছিলেন বাসে করে ইজতেমায় যাওয়ার জন্য। কিন্তু অবরোধের কারণে বাস যাচ্ছে না দেখে বাংলামেইলের প্রতিবেদকের কাছে আক্ষেপ করে এ কথা বলে।

সিরাজুল ইসলাম। বয়স ষাটের কাছাকাছি। ঈমান আকিদার শিক্ষা ও জ্ঞান লাভের জন্য দশ বছর ধরে বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়া আসা তার। কিন্তু এবার বিএনপি জোটের লাগাতার অবরোধ ও রাজপথে বাস-ট্রাকে তাণ্ডবকারীদের অগ্নিখেলা দেখে থমকে গেছে তার ইজতেমার যাত্রা।

তাবলীগ জামাত অনুসারী এ বৃদ্ধ আরও বলেন, ‘টিপিত কওছে গাড়ি-ঘোড়া বলে পুলিশ পাহারাত ঢাকা যাওচে। এটে ডাইবারেরা ফির বাসে ছাড়ে না। কনতো মোর কতো মানুষ এবার ইজতেমাত যাবার পাওছে না। কারো সাতে যে দল করি যাইম, তাকো তো পাঁওচো না।’

বিএনপি ও আওয়ামী জোট নিজেদের স্বার্থে প্রতিহিংসামূলক পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে দাবি করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এমার দুইজনের কায়ো সমাধান চায় না। খালি মুখোতে জনগণ জনগণ করি ফ্যাদলা পাড়ে। আর ওমার কামের সময় হামার মতো জনগণকই নাগে। ধর্ম-কর্মের কোনো দাম নাই ওমার কাছোত।’

এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘খালি উন্নয়ন হইলে হবার ন্যয়ই, সাতে গণতন্ত্র থাকা নাগবে।’

এদিকে, অবরোধ চলাকালে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাবলীগ জামাতে দলীয়ভাবে ধর্মপ্রাণ মোসলমানরা বাসে ব্যানার সাঁটিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে রওনা হলেও চরম বিপাকে পড়েছে যারা একাই যেতে চাইছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার কথা বলা হলেও সড়ক পথে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দূরপাল্লা তো দূরের কথা আন্তঃজেলার পরিবহনগুলোও চলছে না। অবশ্য নগরীর দু’একটি পয়েন্টে পুলিশের সহযোগিতায় খাদ্য পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে করতে দেখা গেছে।

রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের জিলানী বাংলামেইলকে বলেন, ‘অবরোধে যেন কোনো বাধার কারণে যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে এজন্য নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট পুলিশ রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি পুলিশি সহযোগিতায় গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে।’