Buscar
13:54h. Martes, 12 de noviembre de 2019

ধর্মতলায় অমিত

শেষ পর্যম্ত কলকাতা পুরসভা ও দমকল বি জে পি-কে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই সভা করার ছাড়পত্র দিতে বাধ্য হল৷‌ ফলে আজ রবিবার, বেলা দেড়টা থেকে শুরু হচ্ছে বি জে পি-র সভা৷‌ এদিনের এই রাজনৈতিক সমাবেশকে বি জে পি উত্থান দিবস হিসেবে পালন করছে৷‌ এদিনের মুখ্য বক্তা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহ৷‌ থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ সিংহ৷‌ শনিবার সকালে বি জে পি-র পক্ষ থেকে অলক গুহ রায় পুরসভা ও দমকলের ছাড়পত্র জোগাড় করেন৷‌......................................

শেষ পর্যম্ত কলকাতা পুরসভা ও দমকল বি জে পি-কে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই সভা করার ছাড়পত্র দিতে বাধ্য হল৷‌ ফলে আজ রবিবার, বেলা দেড়টা থেকে শুরু হচ্ছে বি জে পি-র সভা৷‌ এদিনের এই রাজনৈতিক সমাবেশকে বি জে পি উত্থান দিবস হিসেবে পালন করছে৷‌ এদিনের মুখ্য বক্তা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহ৷‌ থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ সিংহ৷‌ শনিবার সকালে বি জে পি-র পক্ষ থেকে অলক গুহ রায় পুরসভা ও দমকলের ছাড়পত্র জোগাড় করেন৷‌ তারপর তিনি, তথাগত রায় ও সুশাম্ত পাল ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে যেখানে সভা হবে, সেই জায়গা পরিদর্শন করেন৷‌ সঙ্গে ছিলেন পুর প্রতিনিধি ও কলকাতা হাইকোর্টের প্রতিনিধিরা৷‌ শুক্রবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক শর্তসাপেক্ষে বি জে পি-কে ওই জায়গায় সভা করার অনুমতি দেওয়ার পর পুরসভা ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার জন্য ভাবনাচিম্তা করছিল৷‌ পুরসভা তখনও বি জে পি-কে ওখানে সভা করতে দিতে চাইছিল না৷‌ কিন্তু পুরসভার ভাবনাচিম্তা ভাবনাস্তরেই থেকে যায়৷‌ শেষ পর্যম্ত পুরসভা সিদ্ধাম্ত নেয় যে, আর নয়, ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়া হবে না৷‌ বিশেষত, শনিবার ছুটির দিন কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যেতে গেলে প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরের বিশেষ অনুমতি লাগবে৷‌ ফলে ২২ জুলাই থেকে বি জে পি ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার যে চেষ্টা চালাচ্ছিল, তা সফল হল৷‌ সকালে বিচারপতি বসাকের নির্দেশ অনুযায়ী ঘটনাস্হলে যান হাইকোর্ট মনোনীত স্পেশাল অফিসাররা৷‌ তাঁরা হলেন দমকল বাহিনীর ডি জি সঞ্জয় মুখার্জি ও কলকাতা পুরসভার জয়েন্ট কমিশনার (ডেভেলপমেন্ট)৷‌ উপস্হিত ছিলেন কলকাতার নগরপাল মনোনীত প্রতিনিধি৷‌ তাঁদের উপস্হিতিতে বি জে পি-র তিন প্রতিনিধি জেনে নেন, কীভাবে মঞ্চ তৈরি হবে, কতটা ফাঁক রাখতে হবে, কোথায় গাড়ি থাকবে, কোথা দিয়ে দর্শক বা শ্রোতারা ঢুকবেন ও বেরোবেন৷‌ বিচারপতির নির্দেশ মতোই পুরসভা ও দমকলের বিধি মেনে এ সব কাজে হাত দিয়েছে বি জে পি৷‌ শনিবার বিকেলেই মঞ্চ তৈরির কাজ খানিকটা এগিয়ে গেছে৷‌ বি জে পি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা আগেই বলেছিলেন, দমকল ও পুরসভা যেভাবে মঞ্চ বাঁধতে বলবে, সেভাবেই বাঁধা হবে৷‌ আদালতে তাঁরা সে কথা জানিয়েও ছিলেন৷‌ সিদ্ধার্থনাথ সিংহ ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে গেছেন৷‌ অমিত শাহ আসবেন আজ, রবিবার৷‌ ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার জন্য বি জে পি প্রথম কলকাতা পুলিসকে চিঠি দেয় ২২ জুলাই৷‌ এরপর আরও তিনবার বি জে পি ওই চিঠি দেয়৷‌ কিন্তু কোনও বারই কলকাতা পুলিসের কাছ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি৷‌ শেষ পর্যম্ত কলকাতা পুলিস সভা করার সপ্তাহ দুয়েক আগে আপত্তি তোলে৷‌ তারা বলে, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করা যাবে না৷‌ বি জে পি প্রশ্ন তোলে, তৃণমূল যদি ওই জায়গায় সভা করতে পারে, তাহলে বি জে পি কেন পারবে না? তখন রাজ্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির নানা নিয়মনীতির ফ্যাঁকড়ায় বি জে পি-কে বেঁধে দেওয়া হয়৷‌ কলকাতা পুরসভা ও দমকলের কেন অনুমতি নেওয়া হয়নি, বি জে পি-র কাছে সে প্রশ্ন রাখা হয়৷‌ তখন দ্রুত বি জে পি পুরসভা ও দমকলের কাছে অনুমতি চায়৷‌ রাহুল সিনহা তখন চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ২১ জুলাই তৃণমূল পুরসভা ও দমকলের কাছে সভা করার সময় অনুমতি চায়নি৷‌ কিন্তু এই বিতর্কে না জড়িয়ে বি জে পি ওই দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে অনুমতি চায়৷‌ কিন্তু মঞ্চ করার নকশায় নানা গন্ডগোল ছিল বলে পুরসভা অনুমতি দেয়নি৷‌ মঞ্চের নকশায় যে ছাড় রাখা হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়, সিঁড়ির কোনও উল্লেখ নেই, নকশায় ইঞ্জিনিয়ারের সই নেই৷‌ শেষ পর্যম্ত আবার সেই সব গন্ডগোল মিটিয়ে নতুন করে নকশা দেয় বি জে পি৷‌ এরই মধ্যে বি জে পি অনুমতি পাওয়ার জন্য আদালতে যায়৷‌ তিনবার আদালতে যাওয়ার পর আদালতের হস্তক্ষেপে শুক্রবার বি জে পি সেই অনুমতি পায়৷‌ ছাড়পত্র পায় শনিবার৷‌ ইতিমধ্যে কলকাতার কাছাকাছি বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য আসতে শুরু করে দিয়েছে৷‌ শনিবার রাজ্য বি জে পি অফিসে গিয়ে দেখা গেল ত্রিপল দিয়ে ঢাকা চাঁদোয়ার নিচে সমর্থক ও কর্মীরা জড়ো হয়েছেন৷‌ এর মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা নজর টানার মতো৷‌ এদিকে আদালতে জয়ের পর রাহুল সিনহা ছড়া কাটেন: ‘আজ জিতেছি কোর্টে, কাল জিতব ভোটে’৷‌

বি জে পি-তে নতুন সদস্য: রাহুল সিনহা জানান, তৃণমূল থেকে মানুষের মন উঠে যাচ্ছে৷‌ তাদের দল থেকে বহু মানুষ আমাদের দলে যোগ দিচ্ছে৷‌ যেমন, বর্ধমান জেলার জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের শাম্তি চাল আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন৷‌ রাহুল সিনহা বলেন, আপ থেকেও আমাদের দলে এসেছেন প্রিন্স পাঠক৷‌ তাঁর সঙ্গে আপের আরও কয়েকজন সদস্য যোগ দিয়েছেন৷‌ আমরা সোম মণ্ডলের মতো একজন সফল আইনজীবীকে পেয়ে খুশি হয়েছি৷‌ আমাদের আইন সংক্রাম্ত সেল এর ফলে আরও শক্তিশালী হল৷‌