Buscar
15:01h. Jueves, 15 de Noviembre de 2018

ফ্রান্সে পত্রিকা অফিসে হামলায় নিহত ১২

প্যারিস 

মজা করাই ছিল পত্রিকাটির কাজ। মজা করেই প্রকাশ করা হয়েছিল আইএস-এর নেতা আবু বক্র আল-বাগদাদির ব্যঙ্গচিত্র। টুইট করা সেই ছবিতে লেখা ছিল, “ফ্রান্স এখনও অক্ষত।”

মজা করাই ছিল পত্রিকাটির কাজ। মজা করেই প্রকাশ করা হয়েছিল আইএস-এর নেতা আবু বক্র আল-বাগদাদির ব্যঙ্গচিত্র। টুইট করা সেই ছবিতে লেখা ছিল, “ফ্রান্স এখনও অক্ষত।” আর তার জবাবে ওই জঙ্গি নেতাটি বলছেন, “অপেক্ষা করুন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সময় তো হাতে রয়েইছে।”

ট্র্যাজেডি প্রহসনে পরিণত হতে দেখা যায় সচরাচর। এ ক্ষেত্রে উল্টোটা হল। টুইট করার একটু পরেই জঙ্গি হামলায় রক্তে ভেসে গেল পত্রিকা অফিস। সন্ত্রাস এ বার থাবা বসালো ছবি আর কবিতার শহর প্যারিসেও।

ফরাসি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে বেশ জমজমাট এলাকায় সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘শার্লি এবদো’-র দফতর। মূলত রংপেন্সিলে ব্যঙ্গচিত্র এঁকেই খ্যাত। সেই পত্রিকার অফিসে আজ দিনের আলোয় হঠাৎই ঢুকে পড়ল তিন মুখোশধারী। মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা, হাতে কালাশনিকভ। এক জনের হাতে আবার রকেট লঞ্চার। কয়েক মুহূর্তে ঝাঁঝরা করে দিল অন্তত ১২ জনকে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক স্তেফান শার্বনেয়ার এবং আরও তিন নামজাদা ব্যঙ্গচিত্রশিল্পী উয়োলিন্স্কি, তিনু ও কাবু। জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে নিহত হন দুই নিরাপত্তাকর্মীও। 

তবে এ যে নেহাতই বন্দুকবাজের হানা নয়, পরিকল্পনা মাফিক জঙ্গি-হামলা, তা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। কারণ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ‘ইসলামিক স্টেট’ (আইএস) আগেই হুমকি বার্তা পাঠিয়েছিল, এ বার তাদের আক্রমণের লক্ষ্য ফ্রান্স। তবে তালিকায় তাদের নাম যে শীর্ষে, টের পায়নি শার্লি এবদো।

দুপুর পৌনে একটা নাগাদ মুখোশধারীরা ঝড়ের গতিতে ঢুকে পড়ে ‘শার্লি এবদো’ অফিসের তিনতলায়। সেখানে তখন বৈঠক করছিলেন পত্রিকার সাংবাদিকেরা। স্বয়ংক্রিয় বন্দুক হাতে তারা ঢুকে পড়ে কনফারেন্স রুমে। আর কারও কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় দশ জনের দেহ। একটি ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হয়েছে, শার্লির অফিস থেকে বেরিয়ে আসছেন মাথা ঢাকা পোশাক পরা দু’টি লোক। তার মধ্যে এক জন বেরোনোর পথে খুব কাছ থেকে গুলি করে মেরে ফেলল এক জনকে। হাত কাঁপল না। এর পর তারা হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে গেল একটা কালো গাড়ির দিকে। মাটিতে এক জোড়া জুতো পড়েছিল। ভাবলেশহীন ভাবে সেটা তুলে নিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

পুলিশ সূত্রে খবর, বন্দুকবাজরা প্রথমে প্যারিসের শহরতলির দিকে পালায়। তার পর সেখানে নিজেদের গাড়ি ফেলে রেখে অন্য একটি গাড়ি ছিনতাই করে পালায়। এখনও তাদের নাগাল পায়নি পুলিশ।

আবার অন্য একটি চ্যানেলে দেখা গিয়েছে, জঙ্গিরা চিৎকার করছে “আমরা শার্লি এবদোকে মেরে ফেলেছি। অবশেষে মহম্মদের হয়ে বদলা নিলাম।”